Wednesday, July 12, 2017

মৌলবাদ (ইংরেজি: Fundamentalism)

এ সব দেশে মৌলবাদ বলতে যেকোনো ইসলামি আন্দোলনকে নির্দেশ করে যারা কোরান ও শরিয়ার শিক্ষাকে কঠোরভাবে মেনে চলার পক্ষে মত প্রদান করে। ধর্মীয় .... মূলত তাদের উদ্বেগ দূর করা এবং অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ইসলামি সম্মেলন সংস্থায় (Organization of Islamic Conference) যোগদান করে।

মৌলবাদ সম্পর্কে উইকিপিডিয়া বলছে ,

মৌলবাদ (ইংরেজি: Fundamentalism) হচ্ছে গোঁড়া ধর্মীয় মতবাদসমূহের কঠোর অনুগমনের চাহিদা যা সাধারণত বোঝায় উদার ধর্মতত্ত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। এই শব্দটি ইংরেজি ফান্ডামেন্টালিজম শব্দের অনুবাদ। মৌলবাদ শব্দটির সাধারণ অন্য অর্থ হল মূলজাত। এখানে মূল শব্দটি দ্বারা ধর্ম বোঝানো হচ্ছে। অর্থাৎ আদি কাল থেকেই ধারনাটি ধর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে। আর সে ধর্ম হল খ্রিস্টধর্ম।


https://bn.wikipedia.org/s/tl7




বাংলাপিডিয়া বলছে -


মৌলবাদ উৎপত্তিগত দিক থেকে মৌলবাদ (Fundamentalism) একটি খ্রিস্টীয় শব্দ এবং বর্তমানে শব্দটি ইসলাম ধর্মসহ অন্যান্য ধর্মীয় চরমপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

‘মৌলবাদ’ শব্দটির উৎপত্তি খ্রিস্টীয় ‘মৌলবাদী’ (Fundamentalists) শব্দ থেকে হয়েছে। মোরমন্স (Mormons), পেন্টিকোস্টালস (Pentecostals), ইভনজেলিক্যাল্স (Evangelicals) ইত্যাদি খ্রিস্টীয় নাম বা অভিধাগুলো এই অর্থে মৌলবাদী যে, তাঁরা বাইবেলের প্রতিটি শব্দকে সত্য ও পবিত্র মনে করে এবং এগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেয়। সকল পুরাতন ধর্মে সহজাতভাবেই মৌলবাদী ধারণা বিদ্যমান আছে।

মৌলবাদী ধ্যান-ধারণা অনুশীলনের ক্ষেত্রে ইহুদিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং তারা সবচেয়ে জঙ্গি মনোভাবাসম্পন্ন। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইহুদিবাদকে সবচেয়ে জঙ্গি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইহুদিবাদীরা তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তোরা এবং তালমুদ-এ উল্লিখিত ধর্মীয় আইন ও নৈতিক নির্দেশনাকে কঠোরভাবে মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেয়। এই নির্দেশ অমান্যকারীকে সমাজচ্যুত করা হয়।

তথ্যসুত্র ; বাংলাপিডিয়া

উনিশ শতকের শেষের দিকে ও বিশ শতকের শুরুতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিস্টীয় মৌলবাদ লক্ষ্য করি। খ্রিস্ট মৌলবাদীরা প্রচন্ডভাবে আধুনিক নব্য প্রবর্তিত রীতি-নীতির বিরোধিতা করে, কারণ তারা মনে করে আধুনিকপন্থীরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে বাইবেলের বিশ্বস্ততা ও সঠিকতার ভিত্তি দুর্বল করেছে।
ইরানে ব্যাপক ইসলামি বিপ্লবের (১৯৭৮-৭৯) পর পশ্চিমা দেশসমূহ ইসলামি মৌলবাদী ধারণা আবিষ্কার করে। ইরানের এই ইসলামি বিপ্লব যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত রেজা শাহ পহলবিকে (১৯১৯-৮০) ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তাঁর সকল আধুনিক সংস্কারের বিলোপসাধন করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, ইসলামের মূলনীতি ও বিদেশি প্রভাবমুক্ত ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে ইরানের বিপ্লব ছিলো ইরান থেকে আমেরিকার আধিপত্য উচ্ছেদ করা। আরো অবিশ্বাস্য বিষয় হচ্ছে, বলা হয় টুইন টাওয়ার ঘটনা (১১ সেপ্টেম্বর ২০০১) আল-কায়দা দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। এ দুটি অজুহাতসন্ধানী ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামি পুনরুজ্জীবন সম্পর্কে বিস্তর লেখা-লেখি শুরু হয়, এবং এর ফলে পাশ্চাত্যে তথাকথিত ইসলামি মৌলবাদী ধারণা জন্মলাভ করে।


বাংলাদেশে এর শুরুটা কেমন হতে পারে –

আঠারো শতকের শেষের দিকে আরবে সংঘটিত ওহাবী আন্দোলন থেকে প্রত্যক্ষভাবে বাংলায় ইসলামি পুনরুজ্জীবন আন্দোলনের ধারণা গ্রহণ করা হয়। এই আন্দোলনের দুই বিখ্যাত বাঙালি অনুসারী হলেন তিতুমীর (১৭৮২-১৮৩১) ও হাজী শরীয়তউল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০)। বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা ছিল কৃষক ও কারিগর এবং তারা অপেক্ষাকৃত ইসলাম ধর্মে নবদীক্ষিত। ফলে তারা একটি বিরুদ্ধ-সমন্বয়ধর্মী ইসলামের প্রতি আগ্রহী ছিল। সুলতানি ও মুগল আমলের রাজনৈতিক অবস্থায় এ ধরনের বিরুদ্ধ-সমন্বয়ের প্রতি কোনো হুমকি দেখা দেয়নি। কিন্তু ব্রিটিশদের অধীনে বাংলায় বিরুদ্ধ-সমন্বয়ধর্মীতা ইসলামের অস্তিত্বের প্রতি সুপ্ত আশংকা হয়ে দেখা দেয়। ব্রিটিশ শাসনের অধীনে মুসলিম সমাজকে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন ও ধর্মীয়ভাবে গতিশীল উঠতি হিন্দু মধ্যবর্তী শ্রেণির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সনাতনী ধর্মীয় ব্যবস্থাকে সংশোধন করা প্রয়োজন হয়ে পরে বলে মনে করা হয়। তিতুমীরই প্রথম ব্যক্তি যিনি ইসলামি বা মৌলবাদী ধারায় মুসলিম সমাজের আধ্যাত্মিক সংস্কারসাধনের বিষয়টি উপলব্ধি করেন। তিনি হজব্রত পালন করেন এবং মক্কার ওহাবি মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হন। তিনি বাংলার কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসলামের মূলনীতিসমূহ প্রচলনের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। ইসলামি মতবাদ প্রচারের সময় তিতুমীর স্থানীয় জমিদারদের বাধার সম্মুখীন হন, কারণ তারা মনে করেন তিতুমীরের আন্দোলন তাদের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রতি হুমকি স্বরূপ। তিতুমীর জমিদার ও ইসলামের মৌলনীতি অনুসরণে অনিচ্ছুক মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন। তিনি জমিদার ও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন।


তবে হ্যা –

মৌলবাদী ধ্যান-ধারণা অনুশীলনের ক্ষেত্রে ইহুদিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং তারা সবচেয়ে জঙ্গি মনোভাবাসম্পন্ন। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইহুদিবাদকে সবচেয়ে জঙ্গি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইহুদিবাদীরা তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তোরা এবং তালমুদ-এ উল্লিখিত ধর্মীয় আইন ও নৈতিক নির্দেশনাকে কঠোরভাবে মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেয়। এই নির্দেশ অমান্যকারীকে সমাজচ্যুত করা হয়।

তথ্যসুত্র ; বাংলাপিডিয়া


যা হোক একটি বিষয় বোধহয় এভাবে বলা যায় মৌলবাদের যৌবনকালই জঙ্গিবাদের কৈশোর রুপ

অবশ্য এই উপমহাদেশের প্রেক্ষিতে মানুষের ধর্মভীরুতা কে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির ধর্ম ব্যাবসায়ীরা

সবসময়ই সাধারন মানুষকে জিম্মি করেছে সেটিও আমার মতে জঙ্গিবাদেরই একটি অংশ , পূর্বের সমাজ ব্যবস্থায়

ভন্ড পীর , সাধু , সন্ন্যাসিরাও সাধারন মানুষকে আতংকগ্রস্থ করত ধর্মের নানা রকম ভুল ব্যাখ্যা , বিশ্লেষন, ফতোয়া দিয়ে ; তা ছিল সেকালের জঙ্গিবাদ । আর একালে এসে প্রযুক্তির সিড়ি বেয়ে সেই জঙ্গিবাদ রুপ নিয়েছে বিভিন্ন রকম সন্ত্রাসী হামলায় । যার স্বীকার যথারীতি আগের মতই সাধারন মানুষ । তাই সময়ের ব্যবধানে জঙ্গিবাদ তার রুপ বদলেছে মাত্র।




সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের জঙ্গি হামলায় বিশ্বব্যাপী আতংক সৃষ্টি কারী জঙ্গি সংগঠন ISIS ( ব্যাঙ্গার্থক ; আমি শ্যানা , আমি শ্যানা ) দায় স্বীকার করেছে । আই এস এর উৎপত্তি কিভাবে হল সেই তর্কে আমি যাচ্ছি নাহ , তবে এধরণের খবরে কিছুটা মাথা ব্যাথার উদ্রেক হতেই পারে যে , আই এস মোসাদের সৃষ্টি –

তথ্যসুত্র ; Click This Link

Saturday, September 7, 2013

Sajeeb Wazed Joy Speech with Future Leaders

বাংলাদেশ
আজ তার ভবিশ্যত কাণ্ডারিকে পেয়ে গেছে! 
প্রজন্মকে মুগ্ধ করে Sajeeb Wazed Joy নিজেকে এমন প্রানবন্ত, এমন জড়তাহীন ভাবে উপস্থাপন করে দেশের প্রথম কোন রাজনীতিক নেতা হিসেবে এইভাবে সরাসরি জনগণের প্রশ্নের উত্তর দিলেন।  
সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক সপ্রতিভ মুখে সকল প্রশ্নের জবাব দিয়ে জয় প্রমান করলেন তিনিই এই দেশের ভবিষ্যৎ নেতা।  
We Really Proud of You "Joy" Bangladesh Waiting For You.

Thursday, August 22, 2013

বয়াতির বয়াতি আব্দুর রহমানের দেহ ঘড়ির সময় ফুরিয়ে গেল

প্রায় চার যুগ ধরে তিনি বাউল গান শুনিয়ে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহু দেশের মানুষকে মাতিয়ে রেখেছেন। সেই সঙ্গে বাংলা লোকগানকে করেছেন সমৃদ্ধ। হ্যাঁ, তিনি আব্দুর রহমান বয়াতির। জন্ম ১৯৩৬ সালে ১ জানুয়ারি ঢাকার দয়াগঞ্জে। আব্দুর রহমান বয়াতির বাবার নাম তোতা মিয়া। দয়াগঞ্জ বাজারে তোতা মিয়ার একটি হোটেল ছিল। সেখানে মাঝে মধ্যে অনেক গুণী বাউল শিল্পীর আসর বসত। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে আব্দুর রহমানের ভেতর গানের প্রতি ভালবাসার সূত্রপাত।
ছোটবেলা থেকেই বাউল গানের প্রতি ছিল তাঁর অদম্য আকর্ষণ। যেখানে বাউল গানের আসর বসত সেখানেই ছুটে গিয়ে সামনের সারিতে বসে মনেপ্রাণে গান শুনতেন। প্রখ্যাত বাউল শিল্পী আলাউদ্দিন বয়াতী, মারফত আলী বয়াতী, খালেক দেওয়ান, হালিম বয়াতী, রজ্জব আলী দেওয়ান, আলেক দেওয়ান , দলিল উদ্দিন বয়াতীসহ বহু শিল্পী প্রায়ই আসতেন গানের অনুষ্ঠান করতে। বাবার অনুপস্থিতিতে মনভরে বাংলার বাউল গান শুনতেন এবং নিজেও রপ্ত করে ফেলতেন। গানে প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা না থাকলেও, আব্দুর রহমানের একটি অসাধারণ ক্ষমতা ছিল, একটি গান একবার শুনলে পরক্ষণে হুবহু গাইতে পারতেন তিনি। একা একা বসে চেয়ার-টেবিল অথবা মাটির পাতিলকে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে বেছে নিয়ে গুনগুনিয়ে গান করতেন।
এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় কিছু লোক তাঁকে গান গাইতে বললে গানপাগল কিশোর আব্দুর রহমান গেয়ে উঠলেন ‘লাউয়ের আগা খাইলাম ডগা খাইলাম এনই সাধের ডুগডুগি, আমার কদুর বয়সে করলো বৈরাগী।’ তাঁর কণ্ঠের সুরের কারুকাজ শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী আলাউদ্দিন বয়াতী সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বুকে টেনে নেন। সেই থেকে শুরু হলো তাঁর নতুন জীবন। মনে মনে গ্রহণ করেন এই কালজয়ী বাউল শিল্পীর শিষ্যত্ব্ব। কিন্তু আব্দুর রহমানের সঙ্গীত জগতে প্রবেশ পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন তাঁর বাবা। ছেলের গান গাওয়াকে তিনি মেনে নিতে পারলেন না। এমন সময় তাঁর পাশে ভাগ্যদেবী হয়ে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিলেন মা আজমেরী বেগম। বাবার সাফ জানিয়ে দেন, ছেলে গান গাইলে ঘরের দরজা তাঁর জন্য চিরতরে বন্ধ।
বাবার নিষেধ অমান্য করেও রহমান ছুটে যেতেন বয়াতীদের গানের আসরে। কখনো কখনো বাবার বকুনি খেয়ে গানের জন্য ঘর থেকে পালালেও মমতাময়ী মা রাতের আঁধারে চুরি করে ভাতের থালা তুলে দিতেন আব্দুর রহমানের হাতে। মায়ের মনের সুপ্ত ইচ্ছা ছিল, তাঁর ছেলে একদিন বড় সঙ্গীতশিল্পী হবে। এজন্যই তিনি মমতা দিয়ে আগলে রেখেছিলেন তাঁকে। সেই সময় প্রতি বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট মাজারে কাওয়ালি গানের আসর বসত। ১৫ মিনিট সময় দেয়া হত বাউল গানের জন্য। আব্দুর রহমান যথারীতি চলে যেতেন এবং গান শুনিয়ে মতিয়ে রাখতেন আসর। একদিন হাইকোর্ট মাজারে তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে খ্যাতনামা সঙ্গীত পরিচালক শাহনেওয়াজ বিটিভিতে অডিশনের জন্য নিয়ে যান আব্দুর রহমানকে। কিন্তু ঢাকার লোক ঠিকভাবে কথা বলতে পারে না, এই অযুহাত দেখিয়ে বাদ দিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। পর পর দুইবার সত্য বলায় সে অডিশন থেকে একই অযুহাতে বাদ পড়ায়, তৃতীয়বার মিথ্যার আশ্রয় নিলেন। তৃতীয়বার তাঁকে অডিশনের জন্য ডাকেন বরেণ্য শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, বাড়ি কোথায় ? তিনি বলেছিলেন, বাবার পৈতৃক বাড়ি বিক্রমপুরে। মিথ্যা বললেও এ ছিল এক চরম সত্য। এরপর আব্দুর রহমানের জীবনে আসে এক নতুন বসন্ত। ১৯৭২ সালে দেশের বরেণ্য শিল্পী আব্দুল আলীমের সঙ্গে নিজের লেখা ও সুর করা ‘মরণেরই কথা কেন স্মরণ কর না, আজরাইল আসিলে কারো কৈফিয়ত চলবে না’ গানটি বিটিভিতে পরিবেশন করে শ্রোতাদের কাছে অনেক প্রিয় হয়ে ওঠেন।
ষাটের দশকে বাংলাদেশ বেতারে গান গেয়ে জয় করে নিয়েছেন অগণিত শ্রোতার মন। এর পর দীর্ঘ সময় আলাউদ্দিনের সঙ্গে আব্দুর রহমানের দেখা না হলেও তাঁর অনেক গান তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাইতেন। অনেক দিন পর রথখোলার মোড়ে খালেক দেওয়ানের সঙ্গে পালা গানে অংশ নেন আব্দুর রহমান। সেই সময় আলাউদ্দিন বয়াতীকে একটি লোক এসে বলেন, খালেক দেওয়ানের সাথে পালা গান গাইবেন আপনার এক শিষ্য, নাম রহমান। তিনি চিন্তায় পড়ে যান। এ নামে তাঁর কোন ছাত্র আছে কিনা মনে করতে পারছিলেন না। ছুটে যান গানের আসরে। ভোর পর্যন্ত চলছিল পালা গান। রহমান পালা শেষে শুনতে পান চাদর মুড়ি দিয়ে আলাউদ্দিন বয়াতী তাঁর গান শুনছে। রহমানের গলায় ছিল একটি টাকার মালা। তিনি এটি নিয়ে আলাউদ্দিন বয়াতীর গলায় পরিয়ে দেন। তখন তাঁকে সবাই চিনতেন আব্দুর রহমান নামে, সেই দিন আলাউদ্দিন বয়াতী বলেন, তুমি যখন আমার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছো, আজ থেকে তোমার নামের শেষেও থাকবে বয়াতী। তার পর থেকে আব্দুর রহমানের নাম হলো, আব্দুর রহমান বয়াতি।
অর্থের অভাবে লেখাপড়ায় বেশি অগ্রসর হতে পারেননি আব্দুর রহমান। মাত্র অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। আক্ষরিকভাবে যথাযথ শিক্ষা লাভ না করলেও আব্দুর রহমান বয়াতী দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে একজন গুণী শিল্পীকে সম্মান দেখাতে হয়। তিনি শুনে শুনে হাজার হাজার গান রপ্ত করা ছাড়াও পালা গানের বিভিন্ন কৌশল, কোরান, হাদিস, গীতা, বাইবেলসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের তত্ত্বজ্ঞান আয়ত্ব্ব করেন। তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় কয়েকটি গান হল- ‘মন আমার দেহঘড়ি সন্ধান করি কোন মেস্তরি বানাইছে’, ‘আমার মাটির ঘরে ইঁদুর ঢুকেছে’, মরণেরই কথা কেন স্মরণ কর না’, ‘মা আমেনার কোলে ফুটলো ফুল’, ‘ছেড়ে দে নৌকা মাঝি যাবো নদীয়া’, ‘আমি ভুলি ভুলি মনে করি প্রাণের ধৈর্য মানে না’ সহ অসংখ্য গান।
তাঁর বেশ কিছু অডিও ক্যাসেট, ভিডিও সিডি ও রিমিক এ্যালবাম আছে, যেগুলো এখনও শ্রোতাদের কাছে অনেক প্রিয়। চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজের আমন্ত্রণে বাউলশিল্পী হিসেবে তিনি জীবনে প্রথম ‘গুণাহগার’ নামে একটি ছবিতে প্লে-ব্যাক করেন। এ ছাড়া মোস্তাফিজুর রহমানের ‘শঙ্খনীল কারাগার’ সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তিনি প্লে-ব্যাক করেছেন। তিনি জমিউর রহমান লেমনের ‘পরানের গহীনে’ নামে একটি নাটকে অভিনয়ও করেছেন। খান আতাউর রহমানের ‘ফারাক্কা’ নামের একটি ডকুমেন্টারিতে অংশ নিয়েছিলেন। গানের পাশাপাশি তিনি কিছু ছবিতে অভিনয়ও করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আমজাদ হোসেনের ‘কসাই’, মফিজ উদ্দিনের ‘অসতী’ এবং সাহাদাত খানের ‘হৃদয় থেকে হৃদয়।’ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পী বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছেন। সেগুলো হলো ‘হাঁস-মুরগির খামার’, ‘নিরক্ষরতা’, ‘শিশুশিক্ষা’, ‘পঞ্চম জাতীয় পলিও টিকা দিবস’, ‘বনের শোভা পশুপাখি তাদেরকে কেউ মাইরো না’, ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’, ‘নির্বাচনী প্রচারণা’, ‘৮৮ বন্যা’, ‘খরার সময়ে বৃষ্টির জন্য বিজ্ঞাপন’, ‘ক্রীড়া উন্নয়ন লটারী’ ও ‘পরিবার পরিকল্পনা।’
১৯৭৩ সালে মাত্র ৩৫ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ১০ মিনিটের একটি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের পরই এই শিল্পীর খ্যাতি সারাবিশ্বে ছড়াতে থাকে। পৃথিবীর প্রায় ৩২টি দেশে তিনি লোকসঙ্গীতের মরমী সুর ছড়িয়ে দেন। বিদেশের মাটিতে তাঁর সবচেয়ে বড় পাওয়া আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।
তিনি যে সব পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তা-ই তাঁর জীবন সর্বস্ব। এগুলো হলো-সিটিসেল চ্যানেল আই এ্যাওয়ার্ড, সোলস এ্যাওয়ার্ড, টেলিভিশন দর্শক ফোরাম কর্তৃক লাইফ টাইম এ্যাচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড, ২০০৬ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী থেকে গুণীজন সংবর্ধনা, নজরুল একাডেমী সম্মাননা ২০০৪, সমর দাস স্মৃতি সংসদ এ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ বাউল সমিতি আজীবন সম্মাননা এ্যাওয়ার্ড, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতি আজীবন সম্মাননা এ্যাওয়ার্ড, ইউএসএ জাগরনী শিল্পীগোষ্ঠী এ্যাওয়ার্ড, স্বরবীথি থিয়েটার বাংলা নববর্ষ ১৪১২ উপলক্ষে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান, কায়কোবাদ সংসদ আজীবন সম্মাননা, স্পেল বাউন্ড বিশেষ সম্মাননা, বাংলাদেশ বাউল সংগঠন থেকে গুণীজন সম্মাননা পদক, বিক্রমপুর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পদক, জাতীয় যুব সাংস্কৃতিক সংস্থা থেকে সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি স্বর্ণ পদক ও আজীবন সম্মাননা-২০০৫, সিটি কালচারাল সেন্টার থেকে গুণীজন সম্মাননা পদক, বাউল একাডেমী পদক, একতা এ্যাওয়ার্ড, লোকসঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য স্বীকৃতি স্বরূপ লোকজ বাউলমেলা পদক ২০০৪, ওস্তাদ মোমতাজ আলী খান সঙ্গীত একাডেমী সম্মাননা পদক ২০০৬ ও শ্রেষ্ঠ বাউলশিল্পী অডিও ক্যাসেট পুরস্কার।
বাউল গানের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র আব্দুর রহমান বয়াতী আজ আর নেই। আজ ১৯ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই শিল্পী।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। এই বাউল শিল্পীর অসামান্য অবদান বাঙালী জাতী ভুলতে পারবে না কোন দিন।
 — withMoktel Hossain Mukthi and 10 others.

Friday, June 14, 2013

অস্ত্র আসার বিষয়টি আগে থেকে জানতেন মোহসীন`

অস্ত্র আসার বিষয়টি আগে থেকে জানতেন মোহসীন`

দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান আসার বিষয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএল’র তৎকালীন এমডি মোহসীন উদ্দিন তালুকদার আগে থেকেই অবগত ছিলেন বলে জানিয়েছেন এ মামলার অধিকতর তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির চট্টগ্রাম জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.মনিরুজ্জামান চৌধুরী। মোহসীন উদ্দিন তালুকদারের জ্ঞাতসারেই সিইউএফএল জেটিতে ‍অস্ত্রগুলো খালাস হয়েছে বলেও দাবি করেছেন আলোচিত এ তদন্তকারী কর্মকর্তা। 
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে ‍আসামী মোহসীন উদ্দিন তালুকদারের আইনজীবী এডভোকেট ফজলুর রহমান ভূঁইয়ার জেরার সময় এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুজ্জামান এসব কথা বলেন। তবে আইনজীবী দ্রুত প্রশ্ন পরিবর্তন করায় আদালত বিষয়টি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করেননি। 
জেরার এক পর্যায়ে মনিরুজ্জামানের কাছে আইনজীবী মোহসীন উদ্দিন তালুকদারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি জানতে চান। 
মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ তাকে অস্ত্র মামলায় তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এরপর অপর মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।’
আইনজীবী বলেন, আপনি মোহসীন উদ্দিন তালুকদারকে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে তিনদিন পর আদালতে প্রেরণ করেছেন। জবাবে বিষয়টি সত্য নয় বলে ‍জানান মনিরুজ্জামান।
এরপর আইনজীবীর এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুজ্জামান জানান, তিনি সাবেক শিল্প সচিব ড.শোয়েব আহমেদ, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম এবং পুলিশ কমিশনার এস এম সাব্বির আলীকেও বিভিন্ন সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। 
মনিরুজ্জামান জানান, ২০০৯ সালের ২৬ জুলাই ইমামুজ্জামানের জবানবন্দির ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তার লিখিত বিবৃতিতে তার স্বাক্ষর নেয়া হয়। 
এসময় আইনজীবী মত দেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজের টাইপ করা বিবৃতিতে ইমামুজ্জামানকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছিলেন। জবাবে বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান মনিরুজ্জামান। 
এরপর আবারও আইনজীবী মত দেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহসীন উদ্দিন তালুকদারকে ফাঁসানোর জন্য মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামানকে শেখানোমত বিবৃতি দিতে বাধ্য করেছিলেন। জবাবে বিষয়টি সত্য নয় বলে উল্লেখ করেন মনিরুজ্জামান। 
এসময় মনিরুজ্জামান আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দশ ট্রাক অস্ত্র আসার বিষয়টি মোহসীন উদ্দিন তালুকদার আগে থেকেই অবগত ছিলেন। তার জ্ঞাতসারেই সিইউএফএল জেটি দিয়ে অস্ত্র খালাস হয়েছে।’ 
তবে আইনজীবী এসময় দ্রুত প্রশ্ন পরিবর্তন করে ফেলেন। এর ফলে আদালত মনিরুজ্জামানের শেষ জবাবটি রেকর্ড করেননি বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। 
এসময় আইনজীবী দ্রুত প্রশ্ন পরিবর্তন করে বলেন, সাক্ষী এস এম সাব্বির আলীর কাছ থেকেও টাইপ করা বিবৃতি আদায় করে পরে হুবহু রেকর্ড করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। জবাবে বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা। 
এসময় মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের বিবৃতি আমার একাধিক ক্লার্ক দ্বারা লিখিয়েছি। তবে বিবৃতিতে আমার দ্বারা রেকর্ডকৃত কথাটি লেখা আছে।’ 
এরপর বিকেল ৫টায় আসামী মোহসীন উদ্দিন তালুকদারের আইনজীবী এডভোকেট ফজলুর রহমান ভূঁইয়ার জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আদালত এ মামলার কার্যক্রম বুধবার পর্যন্ত মূলতবি করেন।
মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ এ মামলায় কারাগারে থাকা ১১ আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়। 
উল্লেখ্য ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইনে ও চোরাচালানের অভিযোগে দু’টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় ঘাট শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ প্রায় অর্ধশত লোককে আসামী করা হয়। 
মামলা দু’টির সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপরে তৎকালীন কৌসুলী মহানগর পিপি আহসানুল হক হেনার আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন আদালত।
প্রায় সাড়ে তিন বছর অধিকতর তদন্তের পর ২০১১ সালের ২৬ জুন নতুনভাবে আরও ১১ আসামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের তৎকালীন এএসপি মো.মনিরুজ্জামান।
এরপর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিচার।
সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে এ মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক শিল্পসচিব ড. শোয়েব আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুক, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএইফআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম, এনএসআই’র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুর রহমান চৌধুরী, ডিজিএফআই’র সাবেক ডিটাচমেন্ট কমান্ডার কর্নেল (অব) একেএম রেজাউর রহমান, এনএসআই’র সাবেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী এবং সাবেক সিএমপি কমিশনার এস এম সাব্বির আলী, সিএমপি’র বন্দর জোনের তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ হেল বাকী, সাবেক ডিআইজি (এসবি) শামসুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি (সিআইডি) ফররুখ আহমেদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদুর রহমান, সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন, সার্জেন্ট আলাউদ্দিন, গ্রীণওয়েজ ট্রান্সপোর্টের মালিক হাবিবুর রহমান, ম্যানেজার তসলিম মল্লিক, ট্রাক ভাড়া করার মধ্যস্থতাকারী শেখ আহমদ, হাবিলদার গোলাম রসুল, কর্ণফুলী থানার সাবেক ওসি আহাদুর রহমান এবং সিইউএফএলদর সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মবিন হোসেন খান, বিচারক ওসমান গণি, মো.মাহাবুবুর রহমান, আবু হান্নান ও মুনতাসির আহমেদ, সাবেক মহানগর হাকিম কিরণ চন্দ্র রায়, সিইউএফএল’র উপ ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) গোলাম মোস্তফা, বন্দর ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল কে এম মহিউদ্দিন, সিইউএফএল’র সাবেক এমডি আব্দুস সালাম খান, সেনাবাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ তাইয়েবুর রহমানসহ ২৯ জন ইতোমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার পঞ্চম তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এ মামলার ৩০ তম সাক্ষী।